বিমল গুরুংয়ের আপ্ত সহায়কের ভুয়ো পরিচয়ে দিয়ে শিলিগুড়ি আইনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠনের কর্নধারকে প্রতারণা - The News Lion

বিমল গুরুংয়ের আপ্ত সহায়কের ভুয়ো পরিচয়ে দিয়ে শিলিগুড়ি আইনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠনের কর্নধারকে প্রতারণা

 


দি নিউজ লায়নঃ   বিমল গুরুংয়ের নাম ভাঙিয়ে তার আপ্ত সহায়কের ভুয়ো পরিচয়ে দিয়ে শিলিগুড়ি আইনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠনের থেকে লক্ষাধিক টাকার প্রতারনা। শিলিগুড়ি সাইবার সেলের তাৎপরতায় গ্রেপ্তার কালিম্পঙ নিবাসী দুই যুবক। ধৃতদের নাম তারা পরিয়ার ও  দীপেশ ত্রিক্ষত্রি। পূর্বেও একাধিক প্রতারনার মামলা রয়েছে ধৃতদের বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে শিলিগুড়ি দাগাপুরের ইনস্টিটিউট অফ লিগ্যাল স্টাডিজের পরিচালন সমিতির সভাপতি জয়জিৎ চৌধুরীর কাছে বিমল গুরুংয়ের নাম করে গত ৮ই জুলাই অপরিচিত নাম্বার থেকে একটি ফোন আসে। 


ফোনে অভিযুক্ত তারা পরিয়ার ও দীপেশ ত্রিক্ষত্রি নিজেদের বিমলের আপ্ত সহায়ক হিসেবে  ভুয়ো পরিচয় দেয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার জয়জিৎ বাবুর কাছে পাহাড়বাসীর ওয়েলফেয়ারের জন্য পার্টি ফান্ডে এল লক্ষ টাকার ডোনেশন চান তারা। তাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে অভিযুক্তদের কথা মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাংক খাতের থেকে ১লক্ষ টাকা ৯ই জুলাই কালিম্পঙ নিবাসী দুই অভিযুক্তের ব্যাংক একাউন্টে কলেজ কর্মীকে দিয়ে স্থানান্তরিত করেন তিনি।


 কিন্তু এরপর ১০ই জুলাই ফের জয়জিৎ বাবুকে ফোন করে অভিযুক্তরা পার্টি ফান্ডের জন্য আরও দু লক্ষ টাকা দাবি করেন। এই অর্থ প্রদানের জন্য চাপ দেওয়া হয় কর্তৃপক্ষকে। আর তখুনি বিষয়টি খটকা লাগায় ফোন নাম্বার ধরে খোঁজ খবর শুরু করেন তিনি। বিষয়টি কলেজে জানাজানি হতেই ১২ই জুলাই রেজিস্টার সঞ্জয় ভট্টাচার্য শিলিগুড়ি সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে সাইবার বিশেষজ্ঞরা টাকা স্থানান্তরের সময়তে অভিযুক্তদের একাউন্টের লিংক ধরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।


 এরপরই ব্যাংক একাউন্ট ও কেওয়্যাসি থেকে উঠে আসা তথ্য থেকে পরিষ্কার হয় এই পুরো প্রতারণা চক্রের মাস্টারমাইন্ড তারা পরিয়ার। কালিম্পঙের লোয়ার তাসীডিং এলাকার বাসিন্দা সে। মঙ্গলবার কালিম্পঙ থেকে তারাকে গ্রেপ্তার করে চক্রের অপর অভিযুক্ত দীপেশ ত্রিক্ষত্রির নাগালে পৌঁছায় পুলিশ। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে তাদের সঙ্গে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা নেতা বিমল গুরুংয়ের কোনো যোগ নেই। ২০১৮সালে একইভাবে বিনয় তামাংয়ের নাম ভাঙিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা রয়েছে। 


সেসময়ও পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় ধৃতরা। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের  গোয়েন্দা বিভাগের এসিপি রাজেন ছেত্রী জানান যে এটিএম কার্ডটি ব্যবহার করে তারা টাকা তুলেছিল তা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একটি মোবাইল ফোনও মিলেছে। তদন্তে যে তথ্য উঠে এসেছে তাতে এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে বিমল গুরুং ও তার রাজনৈতিক দলের কোনোরকম যোগ নেই। ধৃত দীপেশের বিরুদ্ধে একাধিক পুরোনো মামলা রয়েছে। শিলিগুড়ি আদালতের ভারপ্রাপ্ত সরকারি আইনজীবী সুশান্ত নিয়োগী জানান ধৃতদের বুধবার শিলিগুড়ি আদালত ধৃতদের পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যা উঠে এসেছে তাতে এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে বিমল গুরুং ও তার দলের কোনো যোগ নেই। তার নামে ব্যবহার ভুয়ো পরিচয় দিয়ে প্রতারনার ফাঁদ পেতেছিল ধৃতরা।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.